ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিকে ঘিরে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি আবারও ফিরেছে পুরোদমে প্রাণচাঞ্চল্যে। আগাম বুকিংয়ের চাপে ইতোমধ্যে এলাকার প্রায় সব রিসোর্ট ও কটেজ শতভাগ পূর্ণ হয়ে গেছে।
ঈদকে সামনে রেখে সাজেকজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পর্যটকদের স্বাগত জানাতে আবাসন, খাবার ও পরিবহনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। পর্যটকদের বাড়তি চাপ সামাল দিতে সেবার মান ধরে রাখতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগে সাজেক বরাবরের মতোই শীর্ষ পছন্দ। তাই অনেকেই আগেভাগেই অনলাইনে কিংবা সরাসরি যোগাযোগ করে রুম বুকিং নিশ্চিত করেছেন। ফলে বুকিং ছাড়া সাজেকে এলে ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা জানান, ঈদ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব রিসোর্ট ও কটেজ পূর্ণ হয়ে গেছে। পর্যটকদের আগে থেকেই বুকিং নিশ্চিত করে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
পাহাড়ি এই পর্যটনকেন্দ্রটি গত কিছু সময় নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, পাহাড়ি অঞ্চলের অস্থিরতা এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাজেকের বিস্তীর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় একসময় পর্যটন কার্যক্রমে বড় ধাক্কা লাগে। তবে ধীরে ধীরে সেই ধাক্কা কাটিয়ে নিয়ম মেনে নতুন করে গড়ে তোলা হয়েছে রিসোর্ট ও কটেজগুলো।
এদিকে ঈদের আগেই অনেক পর্যটক রুম না পেয়েও সাজেকে ঘুরতে এসেছেন। তারা জানান, পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরে আনন্দিত তারা, যদিও আবাসনের ক্ষেত্রে কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সাজেক টুরিস্ট পুলিশের উপপরিদর্শক নিশাত রায় জানান, ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তায় যৌথ টহল জোরদার থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ১০ দিনের ছুটিতে পর্যটকদের ব্যাপক আগমনে আবারও ঘুরে দাঁড়াবে সাজেকের পর্যটন খাত। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন, তেমনি আগের ক্ষতিও অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।