পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন প্রকৃতির সান্নিধ্যে আনন্দ ভাগাভাগি করতে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান-এ ভিড় করেছেন হাজারো পর্যটক। সকাল থেকেই দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে সবুজে ঘেরা এই সংরক্ষিত বনাঞ্চল।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্যানজুড়ে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। রমজানজুড়ে তুলনামূলক নির্জন থাকার পর ঈদের দিন আবার প্রাণ ফিরে পায় লাউয়াছড়া। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকে ঈদের আনন্দ উদযাপনে বেছে নিয়েছেন এই বনভূমিকে।

বনের ভেতরের পাহাড়ি পথ, উঁচু-নিচু টিলা আর প্রাকৃতিক নীরবতার মধ্যে সময় কাটিয়ে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বন বিভাগ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। টহল জোরদার করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির কোষাধ্যক্ষ জনক দেববর্মা জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। বনের পরিবেশ রক্ষা ও দর্শনার্থীদের সেবা নিশ্চিত করতে বনকর্মী এবং সিপিজি সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পর্যটকদের উপস্থিতিতে চাঙা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। আশেপাশের রিসোর্ট, হোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভালো বিক্রির আশা করছেন। পাশাপাশি মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ এবং চা বাগানগুলোতেও পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

বন বিভাগ ও সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে পর্যটকদের প্লাস্টিক বর্জন এবং বনের নীরবতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশ সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালে ঘোষিত এই জাতীয় উদ্যানে প্রায় ৪৬০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাস। এর মধ্যে রয়েছে ১৬৭ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি এবং ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, যা দেশের জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার।