পাহাড়ি সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়েছে পর্যটকবাহী বাস। ভোরের নীরবতা ভেঙে বান্দরবানে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নে, বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি পাহাড়ি রাস্তায় চলার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। সুয়ালক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এতে সাড়া দিয়ে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠান।

পরে খবর পেয়ে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার কাজে যোগ দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আরিফ জানান, বাসের ভেতর থেকে একাধিক পর্যটককে উদ্ধার করা হয়। বেশিরভাগই সামান্য আহত হলেও বাসের সুপারভাইজারসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মান্না দে জানান, বাসটিতে চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারসহ মোট ৪৩ জন ছিলেন। তারা সবাই পর্যটনের উদ্দেশ্যে আগের রাতে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী বিভিন্ন মাত্রার আঘাত পান।

পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই বেশি থাকে। আঁকাবাঁকা সড়ক, খাড়া ঢাল এবং ভোরের সময় কম দৃশ্যমানতা এ ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপদ ভ্রমণের জন্য চালকদের আরও সতর্ক থাকা এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

আহতদের মধ্যে গুরুতরদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে অন্যত্র পাঠানো হতে পারে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।