২০২৬ সালের শুরুতে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তুরস্কের পর্যটন খাতে। ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরপরই হঠাৎ করেই ইস্তাম্বুলগামী অনেক ফ্লাইটে যাত্রীসংখ্যা কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে ভ্রমণ পরিকল্পনা স্থগিত করতে শুরু করেন পর্যটকরা। আনুষ্ঠানিক কোনো সতর্কতা না থাকলেও অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে পর্যটন চাহিদায়। সামনে গ্রীষ্ম মৌসুমকে ঘিরে তাই উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
সরকারি তথ্যমতে, ইস্তাম্বুল, আনতালিয়া, বোদরুম, ইজমির ও কাপাদোকিয়ার মতো প্রধান গন্তব্যগুলোতে পর্যটন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো বিমানবন্দর বন্ধ হয়নি, ফ্লাইট সূচিও অপরিবর্তিত রয়েছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা এখনো ভ্রমণ করছেন। অভিজ্ঞ ও নিয়মিত পর্যটকদের আগ্রহও বজায় রয়েছে, যা মোট ভিজিটর সংখ্যাকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
গত বছর রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পর্যটক এসেছেন। জার্মানি থেকেও পর্যটক প্রবাহ বেড়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে গ্রীষ্মকালীন বুকিংয়ে আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছিল, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতায় কিছুটা ভাটা পড়েছে।
সাম্প্রতিক বুকিং ডেটা বলছে, চিত্রটি পুরোপুরি একরকম নয়। মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ বেড়েছে ৭.৫৭ শতাংশ। রাশিয়া, জার্মানি, কাজাখস্তান, নেদারল্যান্ডস ও চীন থেকেও কিছুটা প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও যুক্তরাজ্য থেকে বুকিং কমেছে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে কমেছে ৭ শতাংশের বেশি।
গন্তব্যভিত্তিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ইস্তাম্বুলে বুকিং বেড়েছে ৫ শতাংশের বেশি। ইজমির, বুরসা ও আঙ্কারায় সামান্য বৃদ্ধি রয়েছে। অন্যদিকে আনতালিয়ায় প্রায় ৬ শতাংশ পতন হয়েছে। নেভশেহির, ট্রাবজন ও মুগলাতেও কমেছে আগ্রহ।
ভবিষ্যৎ প্রবণতায় কিছু সতর্ক সংকেত দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফ্লাইট অনুসন্ধান ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তুরস্কে ভ্রমণের আগ্রহ গত বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে। ফেব্রুয়ারিতেই পতনের সূচনা হয়েছিল, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় পর্যটকদের গন্তব্য পছন্দেও পরিবর্তন এসেছে। কিছু ভ্রমণ কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তুরস্ক ও মিশরে আগ্রহ কমে যাওয়ায় পর্যটকরা এখন স্পেনের মতো পশ্চিমা গন্তব্যে ঝুঁকছেন। এর ফলে সেখানে ফ্লাইট ও পর্যটক চাপ বাড়ছে।
তবে তুরস্কের পর্যটন মন্ত্রণালয় এখনো আশাবাদী। তাদের মতে, রাশিয়া ও জার্মানির মতো বাজারে চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য ও স্পেনসহ কিছু দেশের পর্যটকদের মধ্যে সতর্কতা বাড়ছে। সামগ্রিকভাবে, তুরস্কের পর্যটন খাত এখন এক ধরনের ভারসাম্যের মধ্যে রয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যটকদের আস্থা ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।