চাঁদপুরে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থল এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদীর খরস্রোত আর বিস্তীর্ণ বালুচরের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই মোহনা ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে পর্যটকদের ঢলে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক সময়েও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে এসেছেন এই ত্রিনদীর মোহনায়। নদীর জোয়ার-ভাটার দৃশ্য, সূর্যাস্তের মনোরম মুহূর্ত এবং নৌভ্রমণের অভিজ্ঞতা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করছে।
এখানে প্রবেশে কোনো টিকিট লাগে না। ট্রলার বা স্পিডবোটে ঘোরার সুযোগ রয়েছে। শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা এবং স্থানীয় খাবারের স্টল পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে। বিশেষ করে তাজা ইলিশ ভাজা উপভোগের সুযোগ অনেকের কাছেই বাড়তি আকর্ষণ।
চারদিকে নদী আর মাঝখানে বালুচরের বিস্তার অনেকটা সমুদ্রসৈকতের অনুভূতি দেয়। শীত মৌসুমে সরিষা ফুলের হলুদে ছেয়ে গেলে এ অঞ্চল আরও নান্দনিক হয়ে ওঠে। ছবি তোলা ও অবসর কাটানোর জন্য জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।
চাঁদপুরের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু মোহনায় সীমাবদ্ধ নয়। ফরিদগঞ্জে অবস্থিত প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো জমিদার বাড়ি এখনো তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত এ স্থাপনা দর্শনার্থীদের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
এ ছাড়া প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো মঠ ও বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন এলাকায় রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করেছে। ধর্মীয় দিক থেকেও চাঁদপুর গুরুত্বপূর্ণ। এখানকার একটি প্রাচীন মসজিদে বিশেষ করে জুমাতুল বিদায় দেশজুড়ে মুসল্লিদের সমাগম ঘটে।
আধুনিক বিনোদনের জন্য শাহ মাহমুদপুরের আলুমূড়ার একটি রিসোর্ট ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সবুজ বাগান, লেক ও শিশুদের বিনোদন সুবিধা পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেছে।
চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন জানিয়েছেন, ত্রিনদীর মোহনা ও মিনি কক্সবাজার ইতোমধ্যে দেশব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে। ঈদে পর্যটকের চাপ সামাল দিতে প্রশাসনকে বেগ পেতে হয়েছে। পর্যটন সুবিধা বাড়াতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, পর্যটন খাত উন্নয়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার থেকে মোহনা হয়ে লঞ্চঘাট পর্যন্ত ওয়াকওয়ে নির্মাণ, আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কেবল কার ও ভাসমান রেস্টুরেন্ট তৈরির উদ্যোগ রয়েছে।