খুলনার সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন খাতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। নির্ধারিত শিডিউল ভেঙে পড়েছে, একের পর এক বাতিল হচ্ছে ট্যুর। গত এক মাসে অন্তত ১৪টি ট্রিপ বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন ট্যুর অপারেটররা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন নৌযান মালিক, কর্মচারী, গাইডসহ সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষ।
খুলনা থেকে লঞ্চ ও ক্রুজ মিলিয়ে প্রায় ৯০টি নৌযান নিয়মিত সুন্দরবনগামী পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করে। বছরের এই সময়টি মৌসুমের শেষ ভাগ হওয়ায় পর্যটকের চাপ তুলনামূলক কম। ফলে ক্ষতির মাত্রা কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভরা মৌসুমে এমন সংকট হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতো।
ট্যুর অপারেটররা জানান, আগাম বুকিং নেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তে জ্বালানি না পাওয়ায় ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পর্যটকদের আস্থাও কমছে। অনেকেই আগাম বুকিং বাতিল করছেন। ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের সভাপতি মাজাহারুল ইসলাম কচি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি খাতটির জন্য সতর্কবার্তা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর রোজা আগেভাগে শুরু হওয়ায় ভরা মৌসুমের একটি বড় অংশ এতে প্রভাবিত হতে পারে।
জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিই সংকটের মূল কারণ। একটি ক্রুজে একটি ট্যুর পরিচালনায় প্রায় ৩ হাজার লিটার তেল প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রে মিলছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ লিটার। লঞ্চগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োজন ১২০০ থেকে ১৫০০ লিটার, কিন্তু সরবরাহ হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ লিটার।
ট্যুর অপারেটরদের জন্য নির্ধারিত পাম্পের মালিক আতিয়ার রহমান বাবুল জানান, খুলনায় পর্যটন খাতে দৈনিক প্রায় ৩০ হাজার লিটার তেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৬ হাজার লিটার। এই সীমিত সরবরাহ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি একটি সরকারি ট্যুরও বাতিলের মুখে পড়ে, পরে বেশি দামে বিকল্প উৎস থেকে তেল কিনতে হয়েছে।
নৌযান সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি ট্যুর বাতিল মানেই বড় আর্থিক ক্ষতি। এমভি আলাস্কার ম্যানেজার মনোয়ার হোসেন বলেন, একটি ট্রিপ বাতিল হলে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হয়। যাত্রীদের টাকা ফেরত দিতে হয়, অথচ প্রস্তুতিমূলক অনেক খরচ ফেরত পাওয়া যায় না।
এদিকে পর্যটন গাইডদের আয়ও কমে গেছে। গাইড শামীম হোসেন জানান, ট্যুর কমে যাওয়ায় কাজ পাওয়া যাচ্ছে না, অনেকেই পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু পর্যটনেই সীমাবদ্ধ নয়। খুলনার রূপসা ঘাটের ট্রলার চলাচলেও এর প্রভাব পড়েছে। তেলের অভাবে ট্রিপ কমে গেছে, কখনো কম যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, আবার কখনো ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। এতে আয় কমে গেছে বলে জানান ট্রলার মালিকরা।