ঈদ-পরবর্তী মৌসুমে পর্যটকের ভিড় থাকলেও নানা অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কুয়াকাটার পর্যটন খাত ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে। সেবার মানের ঘাটতি ও নিয়ন্ত্রণহীন বাণিজ্যে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন ভ্রমণকারীরা, যা দীর্ঘমেয়াদে পর্যটন প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অব্যবস্থাপনা, যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল এবং দুর্বল নজরদারির সুযোগে পর্যটকদের লক্ষ্য করে অতিরিক্ত মূল্য আদায় এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও টেকসই শৃঙ্খলা ফিরছে না।
ঈদের দুই দিন পর পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে এসে পর্যটক আশরাফুল হক অভিযোগ করেন, সাধারণ খাবারের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেশি নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামান্য মাছ ও ভর্তার জন্যই কয়েকশ টাকা গুনতে হয়েছে, যা প্রতারণার শামিল বলে মনে করছেন তিনি।
শুধু খাবারের ক্ষেত্রেই নয়, অধিকাংশ রেস্তোরাঁয় রেট তালিকা নেই, পরিবেশও অস্বাস্থ্যকর। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মোটরসাইকেলের বেপরোয়া চলাচল নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পরিবার নিয়ে আসা পর্যটক জমির উদ্দিন জানান, শিশুদের নিয়ে সৈকতে নিরাপদে সময় কাটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুতগতির বাইক ও অবিরাম হর্নে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে অনেককেই।
বিনোদন খাতেও অভিযোগ কম নয়। সৈকতের পূর্বাংশে স্বল্প সময়ের দোলনা ব্যবহারে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যানবাহনের ভাড়াও নিয়ন্ত্রণের বাইরে বলে অভিযোগ পর্যটকদের।
পরিচ্ছন্নতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে। দিনে একাধিকবার পরিষ্কার করা হলেও পর্যাপ্ত বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের অসচেতনতা এতে বড় ভূমিকা রাখছে।
সৈকতের পশ্চিমাংশে ভাঙা কংক্রিট ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনাও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতীতে সেখানে দুর্ঘটনার নজির থাকায় পর্যটকরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে কুয়াকাটা চৌরাস্তা ও বেড়িবাঁধ এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত দোকানপাটের কারণে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যানজট বাড়ছে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক জানান, মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ধরে রাখা যাচ্ছে না।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, পরিস্থিতি উন্নয়নে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ প্রশাসনিক তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।