যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কোচেলা ভ্যালির মরুভূমিতে গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত ‘দেশ’—স্লোজামাস্টান। এটি কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র নয়, বরং এক ধরনের মাইক্রোনেশন বা স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেেনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ নিজেদের এই ‘দেশের’ নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করেছেন।
মেক্সিকো সীমান্তের কাছে বিস্তীর্ণ শুষ্ক মরুভূমির প্রায় ১১ একর জায়গাজুড়ে এই ‘দেশ’। বাইরে থেকে দেখলে এটি সাধারণ মরুভূমি মনে হলেও ভেতরে রয়েছে এক অভিনব শাসনব্যবস্থা ও ব্যতিক্রমী নিয়মকানুন। যেমন, এখানে ক্রোকস জুতা পরা নিষিদ্ধ, ‘রিপ্লাই-অল’ ইমেইল পাঠানো বেআইনি, আর দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো বৈধ, তবে শর্ত একটাই, সেটা হতে হবে টাকো খেতে যাওয়ার পথে!
এই মাইক্রোনেশনের প্রতিষ্ঠাতা র্যান্ডি উইলিয়ামস, যিনি নিজেকে ‘সুলতান অব স্লোজামাস্টান’ হিসেবে পরিচয় দেন।
পেশায় তিনি সান ডিয়েগোর দুটি রেডিও স্টেশনের প্রোগ্রাম পরিচালক এবং ‘আর ডাব’ নামে পরিচিত। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘সানডে নাইট স্লো জ্যামস’ উপস্থাপন করছেন, যা এখন বিশ্বের ২৫০টিরও বেশি স্টেশনে সম্প্রচারিত হয়।
বিশ্বের সব স্বীকৃত দেশ ভ্রমণের লক্ষ্য ছিল উইলিয়ামসের। ২০২০ সালের শুরুতে মাত্র একটি দেশ বাকি ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে লকডাউন শুরু হলে তিনি আটকে পড়েন। তখনই তার মাথায় আসে নতুন ধারণা— যদি অন্য দেশে যেতে না পারি, তাহলে নিজের দেশই তৈরি করি!”
এরপর তিনি একটি উপযুক্ত জমি খুঁজে পান, যার মূল্য ছিল প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ ডলার। ২০২১ সালে সেই জমি কিনে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন স্লোজামাস্টান। শুরুতে রাস্তার পাশে সাইনবোর্ড বসানো নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আপত্তি থাকলেও নিয়ম মেনে তা সরিয়ে আবার স্থাপন করা হয়।
ক্রমে সেখানে সীমান্ত চেকপোস্ট, পতাকা, পাসপোর্ট, এমনকি নিজস্ব মুদ্রাও চালু করা হয়। উইলিয়ামস নিজেকে ‘সুলতান’ ঘোষণা করেন এবং সামরিক পোশাকের মতো সাজে হাজির হতে থাকেন।
বিবিসি লিখেছে, বর্তমানে দেশটিতে বিভিন্ন ‘রাজ্য’ রয়েছে এবং নিয়মিত পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
এই ‘দেশে’ নাগরিকত্ব নেওয়া সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, তবে বিভিন্ন পদবী বা উপাধি নিতে চাইলে নির্দিষ্ট ফি দিতে হয়। বর্তমানে ১২০টি দেশের মানুষ স্লোজামাস্টানের নাগরিক হয়েছেন, যার সংখ্যা কিছু স্বীকৃত দেশের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি।
অনেকেই মজার ছলে বা কৌতূহলবশত এতে যুক্ত হলেও, কারও কাছে এটি বাস্তব জীবনের চাপ ও রাজনৈতিক বিভাজন থেকে মুক্তির একটি উপায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির কার্যক্রম ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
বিশ্বজুড়ে এমন শত শত মাইক্রোনেশন রয়েছে। ২০২৭ সালে স্লোজামাস্টান আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘মাইক্রোকন’ নামের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যেখানে বিভিন্ন স্বঘোষিত রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
যদিও সেখানে রাতযাপনের সুযোগ এখনো নেই, ভবিষ্যতে ‘র্যান্ডি উইলিয়ামস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
র্যান্ডি উইলিয়ামসের ভাষায়, ‘স্লোজামাস্টান শুধু আমার নয়, এটি সবার। প্রত্যেকের কাছে এর অর্থ আলাদা।’