মরক্কোয় পর্যটনের প্রবল উত্থান ঘটলেও দেশের রাজধানী রাবাত এখনো তুলনামূলক শান্ত ও ভিড়হীন। অথচ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিক সুবিধার অনন্য মিশেলে শহরটি ধীরে ধীরে নতুন করে পর্যটকদের নজর কাড়তে শুরু করেছে।
মারাকেশের ব্যস্ত অলিগলির বিপরীতে রাবাতের পুরোনো মেদিনা অনেকটাই নিরিবিলি। আটলান্টিক মহাসাগরের ঢেউয়ের শব্দ, সাদা রঙের পরিচ্ছন্ন গলি আর ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য শহরটিকে দিয়েছে আলাদা আবহ। এখানে পর্যটকের ভিড় বা অতিরিক্ত ব্যবসায়িক চাপ চোখে পড়ে না, যা অনেক ভ্রমণপ্রেমীর কাছে স্বস্তিদায়ক।
মরক্কো সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যটক সংখ্যা ২ কোটি ৬০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করেছেন। তবে জনপ্রিয় শহরগুলোতে পর্যটক বাড়লেও রাবাতে সেই হার তুলনামূলক কম, যা প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি। ২০২৬ সালের জন্য রাবাতকে ‘ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল’ ঘোষণা করা হয়েছে। শহরজুড়ে বইমেলা, পাঠচক্র, লেখালেখির কর্মশালা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বইপ্রেমী পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে।
রাবাতের আরেকটি বড় শক্তি এর উন্নত অবকাঠামো। আধুনিক ট্রাম, ট্যাক্সি ব্যবস্থা এবং কাসাব্লাঙ্কা ও তাঞ্জিয়ারের সঙ্গে দ্রুতগতির ট্রেন সংযোগ ভ্রমণকে সহজ করেছে। ফলে রাজধানী শহর হিসেবে প্রয়োজনীয় সুবিধা এখানে সহজেই পাওয়া যায়।
ইতিহাসের দিক থেকেও রাবাত সমৃদ্ধ। ১২শ শতকে আলমোহাদ সাম্রাজ্যের সময় এটি একটি দুর্গনগরী হিসেবে গড়ে ওঠে। পরে ইউরোপ থেকে বিতাড়িত মুসলিমরা এখানে বসতি স্থাপন করে শহরটিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপ দেয়।
শহরের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে শেল্লা নেক্রোপলিস, উদায়াস কাসবা, হাসান টাওয়ার ও মোহাম্মদ ভি সমাধিসৌধ। পাশাপাশি আধুনিক শিল্পকলার জাদুঘর শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরে।
খাবারের দিক থেকেও রাবাত আলাদা পরিচিতি পেয়েছে। তাজা সামুদ্রিক খাবার, ঐতিহ্যবাহী পাস্তিলা এবং স্থানীয় স্ট্রিট ফুড পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
সব মিলিয়ে রাবাত এমন একটি গন্তব্য, যেখানে মরক্কোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শান্ত পরিবেশ একসঙ্গে উপভোগ করা যায়। দ্রুত জনপ্রিয় না হলেও ধীরগতির এই শহরই ভবিষ্যতে ভিন্নধর্মী ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।