জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে সুন্দরবনের পর্যটন খাত। পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল বন্ধের মুখে পড়ায় বাতিল হচ্ছে আগাম বুকিং, ফেরত যাচ্ছে কোটি টাকার অগ্রিম। এতে একদিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ট্যুর অপারেটররা, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো শ্রমিক।
দেশজুড়ে চলমান ডিজেল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে। মোংলাসহ আশপাশের এলাকায় পর্যটকবাহী লঞ্চ ও জাহাজ সারিবদ্ধভাবে নোঙর করে রাখা হয়েছে। জ্বালানির অভাবে বনের গভীরে যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই সংকটে অন্তত ১০ হাজারের বেশি নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী কাজ হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে বন বিভাগের রাজস্ব আয় কমে গেছে। স্থানীয় হোটেল-মোটেল ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও দেখা দিয়েছে মন্দা।
সাধারণত এই সময় সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভিড় থাকে। করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলা, আলোরকোল, নীলকমল ও আন্ধারমানিক এখন প্রায় জনশূন্য। নৌযান না চলায় পর্যটকরা সেখানে যেতে পারছেন না।
মোংলা, খুলনা ও ঢাকা থেকে পরিচালিত শতাধিক বড় লঞ্চ ও আধুনিক ট্যুর জাহাজ এই খাতের মূল ভরসা। তিন থেকে চার দিনের ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন পর্যটকরা। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেই সব ট্রিপ বাতিল করতে হচ্ছে। গত কয়েক দিনে প্রায় কোটি টাকার অগ্রিম ফেরত দিতে হয়েছে ট্যুর অপারেটরদের।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট চার থেকে পাঁচ হাজার নৌযান মালিক এবং অন্তত ১০ হাজার কর্মচারী এখন চরম অনিশ্চয়তায়। দীর্ঘদিন জাহাজ অলস থাকায় কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক জানান, বাজারে চড়া দামে সামান্য ডিজেল মিললেও তা দিয়ে দীর্ঘ রুটে যাতায়াত সম্ভব নয়। মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হবে, যা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির জানান, পর্যটক না আসায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বন বিভাগ। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, তেল সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে তেল সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে জ্বালানি জব্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সুন্দরবনের পর্যটন খাত রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।