ভ্রমণে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা যদি হয় নিরাপত্তা, তাহলে সেই চিন্তা এক পাশে রেখে নিশ্চিন্তে প্যাকিং শুরু করা যায় জাপানের জন্য। সূর্যোদয়ের দেশটি এখন শুধু প্রযুক্তি, সংস্কৃতি কিংবা সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং নিরাপদ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবেও এশিয়ার শীর্ষে। বিশ্বখ্যাত ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স প্রতিষ্ঠান ‘বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে ট্রাভেল প্রোটেকশন’-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে এশিয়ার সবচেয়ে নিরাপদ দেশ হিসেবে উঠে এসেছে জাপানের নাম।
কঠোর আইন, শৃঙ্খলাবদ্ধ সামাজিক ব্যবস্থা এবং অত্যন্ত কম অপরাধ হার জাপানকে পর্যটকদের কাছে করেছে দুশ্চিন্তামুক্ত ভ্রমণের আদর্শ গন্তব্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ট্রিট ক্রাইম ও প্রকাশ্য বিশৃঙ্খলা এখানে প্রায় শূন্যের কোঠায়।
যেভাবে এল এই স্বীকৃতি
এই র্যাঙ্কিং তৈরি করা হয়েছে মার্কিন পর্যটকদের অভিজ্ঞতা, গ্লোবাল পিস ইনডেক্স, নামবিও ও জিওশিওরের তথ্য বিশ্লেষণ করে। পারস্পরিক সম্মান ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সংস্কৃতি জাপানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
টোকিও, যেখানে রাতও নিরাপদ
রাজধানী টোকিওকে বলা হয় বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ মহানগর। ট্রাভেল+লেজার ম্যাগাজিনের মতে, শিবুয়া, হারাজুকু কিংবা শিনজুকুর মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে পর্যটকেরা দিন-রাত নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন।
শিবুয়া পরিচিত তার বিখ্যাত ‘শিবুয়া ক্রসিং’-এর জন্য। আধুনিক ক্যাফে, ফ্যাশন স্টোর আর কনভেয়ার বেল্ট সুশি এখানকার বড় আকর্ষণ।
হারাজুকু জাপানের তরুণ সংস্কৃতি ও ‘কাওয়াই’ ফ্যাশনের কেন্দ্র। টাকেশিতা স্ট্রিটের রঙিন দোকান আর কাছের মেইজি মাজার পর্যটকদের আলাদা অভিজ্ঞতা দেয়।
শিনজুকু বিখ্যাত তার নাইটলাইফ, ইয়াকিটোরি আর বৈচিত্র্যময় রামেনের জন্য।
পর্যটকদের প্রথম পছন্দ
‘কন্ডে নাস্ট ট্রাভেলার’-এর পাঠক ভোটে ২০২৫ সালে জাপান নির্বাচিত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে প্রিয় গন্তব্য হিসেবে। একই বছর জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক দেশটি ভ্রমণ করেছেন।
জাপানে ঘোরার সেরা জায়গা
নিরাপত্তার পাশাপাশি জাপান দেয় বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।
মাউন্ট ফুজি হাইকিং ও রোপওয়ে ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয়।
কিয়োটো মন্দির আর ঐতিহ্যবাহী টি-হাউসের শহর, আর ওসাকা পরিচিত ‘জাপানের রান্নাঘর’ নামে।
কিই উপদ্বীপে রয়েছে কুমানো কোডো তীর্থপথ ও ঐতিহাসিক ওকিহিকি উৎসব।
এ ছাড়া সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তিন হাজারের বেশি অনসেন বা উষ্ণ প্রস্রবণ পর্যটকদের আলাদা আকর্ষণ।