নিজের শহরেই কোথায় এবং কী খাবেন, তা ঠিক করাটা বেশ কঠিন হতে পারে। কিন্তু ভ্রমণের সময় বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনটা বেশি ভালো— চেনা ও নিরাপদ কোনো পছন্দের খাবারেই আটকে থাকা, নাকি সম্পূর্ণ নতুন কিছুর স্বাদ নেওয়া?

বিজ্ঞানীরা প্রয়াত পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের হাতে লেখা নোট থেকে দীর্ঘ ৫০ বছর পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের এমনই এক সমাধান উন্মোচন করার দাবি জানিয়েছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনটি সম্প্রতি 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসে' প্রকাশিত হয়েছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, নোবেলজয়ী এই পদার্থবিদ ১৯৭০ এর দশকে বন্ধুর সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার সময়টিকে একটি গাণিতিক সমস্যায় রূপান্তর করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল একাধিকবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে সেরা খাবারটি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে নিখুঁত করা।
ক্যালিফোর্নিয়ার একটি থাই রেস্তোরাঁয় বন্ধু রালফ লেইটনের সাথে খাওয়ার সময় নিজের প্রিয় 'জিঞ্জার চিকেন' অর্ডার করবেন নাকি নতুন কিছু পরখ করবেন— এই নিয়ে চলা এক বিতর্ক ফাইনম্যানকে একটি গাণিতিক সমীকরণ প্রয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

সমীকরণটি নতুন খাবারের সন্ধান করা (এক্সপ্লোরিং) এবং সবচেয়ে সেরা খাবারটির সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার (এক্সপ্লয়েটিং) মধ্যকার দোটানা দূর করে একটি নিখুঁত সিদ্ধান্ত দিতে পারে।
ফাইনম্যান এই ‘অপটিমাল স্টপিং টাস্ক’ বা 'নিখুঁত মুহূর্তে থামার কৌশল' কখনো প্রকাশ করেননি। ফলে মূল সমস্যাটির ওপর কেবল কিছু দুর্বোধ্য নোটই অবশিষ্ট ছিল।

অক্সফোর্ড, প্রিন্সটন এবং সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের গবেষকরা লিখেছেন, "এই নোটগুলো কয়েক দশক ধরে একেবারেই রহস্যময় ও অপাঠ্য ছিল। অবশেষে আমরা তা উদ্ধার করতে সক্ষম হই এবং ফাইনম্যানের মূল সমস্যা ও তার সমাধানটি পুনর্গঠন করি।"
গবেষক দলটি ফাইনম্যানের সেই সমাধানটিকে একটি নতুন পরিস্থিতির আলোকে প্রয়োগ করেন। যেমন কোনো শহরে নির্দিষ্ট কয়েক রাতের জন্য বেড়াতে গেলে কোন রেস্তোরাঁয় খাওয়া উচিত, তা বেছে নেওয়া।

গবেষকরা ২,৫২০ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালান। অংশগ্রহণকারীদের সামনে প্রতি রাতে কোন রেস্তোরাঁয় খাবেন, তা বেছে নেওয়ার সমস্যাটি তুলে ধরা হয় এবং তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় যে, "রেস্তোরাঁগুলোর খাবারের মান ভিন্ন ছিল, তবে সেই মান কেবল রেস্তোরাঁটিতে নিজে গিয়ে খাওয়ার মাধ্যমেই জানা সম্ভব।"
গবেষণা প্রবন্ধটি অনুসারে, ফলাফল দেখিয়েছে যে, মানুষ গাণিতিক রৈখিক সীমার (লিনিয়ার থ্রেশহোল্ড) চেয়েও বেশি নতুন কিছু খোঁজার প্রবণতা দেখায়। বিশেষ করে ভ্রমণের শুরুর দিনগুলোতে মানুষ নতুন কিছু অন্বেষণের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে, কারণ তখন কোনো ভালো খাবারের সন্ধান পেলে বাকি দিনগুলোতে সেটির সুবিধা নেওয়ার মতো যথেষ্ট সময় হাতে থাকে।
গবেষক দলটি জানান, ফাইনম্যানের এই সূত্রটি প্রয়োগ করতে চাইলে মানুষের উচিত প্রতি রাতে আলাদা আলাদা রেস্তোরাঁয় খাওয়া, যতক্ষণ না তারা এমন একটি রেস্তোরাঁ খুঁজে পাচ্ছেন, যা তাদের প্রত্যাশার মানকে ছাড়িয়ে যায়।
যদি আপনার পূর্বের কোনো পছন্দের রেস্তোরাঁর মান সেই রাতের নতুন রেস্তোরাঁর চেয়ে ভালো হয়, তবে ভ্রমণের বাকি দিনগুলোতে আপনার সেই চেনা রেস্তোরাঁতেই ফিরে যাওয়া উচিত; আর যদি তা না হয়, তবে আবার নতুন কোথাও চেষ্টা করা উচিত।
তারা আরও যোগ করেন, আপনার ভ্রমণের মেয়াদ যত দীর্ঘ হবে, আপনার পছন্দের রেস্তোরাঁটির সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার আগে নতুন নতুন জায়গা অন্বেষণ করার পেছনে আপনার তত বেশি সময় ব্যয় করা উচিত।