চৈত্র সংক্রান্তিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলে উৎসবের আবহে তিন জেলায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণকে গুরুত্ব দিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে চলছে নানা আয়োজন।

রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিন স্বাক্ষর করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পার্বত্য এলাকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে এই বিশেষ ছুটি দেওয়া হয়েছে।

সাধারণত বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সারাদেশে এক দিনের সরকারি ছুটি থাকে। তবে পার্বত্য তিন জেলায় বসবাসরত বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৃহৎ ও বহুমাত্রিক উৎসব বিবেচনায় অতিরিক্ত এক দিন ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলায় বসবাসরত সংশ্লিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর জন্য এই দিনটি ঐচ্ছিক ছুটি হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চৈত্র সংক্রান্তি পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কাছে শুধু একটি দিন নয়, বরং বছরের অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসবের সূচনা। এই সময়টিতে বিভিন্ন সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়।

এরই অংশ হিসেবে তিন পার্বত্য জেলায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও আয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন বয়স ও সম্প্রদায়ের মানুষ।

মঙ্গলবার খাগড়াছড়িতে পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষবরণ কার্যক্রম শুরু হবে। এই শোভাযাত্রায় থাকবে ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে।