দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা বরগুনা-এর বেতাগী উপজেলার বিষখালী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা ‘ঝোপখালী পাখির চর’ ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়ে। নতুন এই দ্বীপচর ইতোমধ্যে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে নজর কাড়ছে। সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এটিকে ভবিষ্যতের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ছোট-বড় নানা প্রজাতির গাছপালা ও প্রাণীর আবাস গড়ে উঠেছে চরে। চরের ভেতর দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে গেছে কয়েকটি সরু নালা, যেখানে পাওয়া যায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। শীত মৌসুমে দেশি-বিদেশি অতিথি পাখির আনাগোনা এই অঞ্চলকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জোয়ারের সময় পুরো চর পানিতে ডুবে যায়। তখন নৌকায় ভেসে ঘুরে দেখা যায় বিস্তীর্ণ সবুজ বনাঞ্চল ও পাখির কোলাহল। ভাটার সময় উন্মোচিত হয় চরের আসল রূপ, যেখানে পাখির বিচরণ আর নীরব প্রকৃতি এক অন্য অভিজ্ঞতা দেয়।

স্থানীয়দের মতে, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এই উপকূলে নতুন চর জেগে ওঠা এক ধরনের আশার সঞ্চার করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে পর্যটকদের আগমন বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলেছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব খন্দকার নাজমুল হুদা শামিম সম্প্রতি চরটি পরিদর্শন করে এটিকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এই চরে বালিহাঁস, বক ও মদনটাকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। তাই অবকাঠামো নির্মাণের আগে সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

বেতাগী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপাতত চরে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হবে না। মানুষের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশে পরিবেশ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এটিকে অভয়াশ্রম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যটন উন্নয়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এই চরের নামকরণ করা হয়। এর আগে ২০২১ সালে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা প্রথম চরটির সন্ধান পান। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে পরিচিতি পেতে শুরু করে ঝোপখালী পাখির চর।