ভ্রমণের ধারণা দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন আর শুধু দর্শনীয় স্থান ঘোরা নয়, চিকিৎসা, উচ্চশিক্ষা কিংবা প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোও হয়ে উঠছে ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পরিবর্তিত বাস্তবতাকে সামনে রেখে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে মালয়েশিয়া, যেখানে মেডিকেল, শিক্ষা ও ইকো ট্যুরিজমকে দেওয়া হচ্ছে বিশেষ অগ্রাধিকার।

‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ ক্যাম্পেইনকে ঘিরে বাংলাদেশে প্রচারণা জোরদার করেছে ট্যুরিজম মালয়েশিয়া। এর অংশ হিসেবে ৬ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চট্টগ্রামে সেলস মিশন পরিচালিত হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীতে আয়োজিত ঢাকা ট্রাভেল মার্ট ২০২৬-এ অংশ নিয়ে সম্ভাব্য পর্যটকদের কাছে নিজেদের সেবা ও সুযোগ তুলে ধরছে সংস্থাটি।

বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের আগ্রহের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মালয়েশিয়া তিনটি খাতে জোর দিচ্ছে। উন্নত চিকিৎসা সুবিধা, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক পরিবেশকে একত্রে তুলে ধরে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় দেশটি। বিশেষ করে চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক কম হওয়ায় মেডিকেল ট্যুরিজমে মালয়েশিয়ার আকর্ষণ বাড়ছে।

চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার মহাপরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল রিজাল আবদ রহমান বলেন, বাংলাদেশের বাজার তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে এবং কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ সফল করতে কাজ চলছে।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন আন্তর্জাতিক প্রমোশন বিভাগের উপপরিচালক সোলেহউদ্দিন আহমদ, জ্যেষ্ঠ পর্যটন কর্মকর্তা মো. রুজাইনি বিন মোহাম্মদ রাদজি, মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল, এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেসসহ বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর ও এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশিদের মধ্যে মালয়েশিয়া ভ্রমণের আগ্রহ বাড়ছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে আন্তর্জাতিক পর্যটক সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ২১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৯২ জন। এর মধ্যে বাংলাদেশি পর্যটক ছিলেন ২ লাখ ৮১ হাজার ৪৯২ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ৮২ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

ভ্রমণ সহজ করতে ঢাকা থেকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে প্রতি সপ্তাহে ৪১টি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এসব ফ্লাইটে মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১১ হাজার ৩৪০। নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, বাতিক এয়ার, এয়ারএশিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।