দেশের পর্যটন খাতকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে দুই দশকব্যাপী একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই পরিকল্পনায় পর্যটনের অবকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে পরিবেশ সুরক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনের ১১তম দিনের সকালের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন পর্যটন খাতের অগ্রগতি ও নতুন জেলা অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে পর্যটন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং এর উন্নয়নে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন খাত নিয়ে পাঁচটি প্রধান প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটনবান্ধব নীতি প্রণয়ন, ট্যুর গাইডদের প্রশিক্ষণ, রন্ধনশৈলী পর্যটনের প্রসার এবং কমিউনিটি, এথনিক, ওয়াটার ও ইকো-ট্যুরিজমের উন্নয়ন। পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যটন বিকাশেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ‘জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনা’র খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।

এই মহাপরিকল্পনায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন, পর্যটন ক্লাস্টার গঠন, স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে পর্যটন বিকাশ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশে ৩০টির বেশি জেলায় স্বীকৃত পর্যটন গন্তব্য রয়েছে। পর্যটনের ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলার সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যভিত্তিক নতুন পর্যটন সুবিধা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।