হাইতির ঐতিহাসিক লাফেরিয়ের দুর্গে উৎসবের ভিড় মুহূর্তেই রূপ নেয় মৃত্যুফাঁদে। প্রবেশপথে হুড়োহুড়ি ও পদদলনে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির উত্তরাঞ্চলের একটি গ্রামীণ এলাকায় অবস্থিত উনিশ শতকের শুরুর দিকের এই দুর্গে শনিবার ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় দমকল বিভাগের প্রধান জঁ অঁরি পেতি জানান, বার্ষিক উৎসব উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও পর্যটক সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি থাকায় প্রবেশপথে হঠাৎ করে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং সেখানেই পদদলনের সূত্রপাত।

তিনি বলেন, প্রবেশমুখে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ায় মানুষজন পড়ে যেতে শুরু করে। এরপর দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে ভেজা ও পিচ্ছিল পরিবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে দুর্গম এলাকা হওয়ায় উদ্ধার তৎপরতায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গেছে। এখনও অনেক আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাইতির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-আইমে এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, উৎসব উপলক্ষে বিপুলসংখ্যক তরুণ সেখানে উপস্থিত হয়েছিল এবং এমন একটি দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

লাফেরিয়ের দুর্গ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। প্রতিবছর এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের জনসমাগমে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও ভিড় ব্যবস্থাপনার অভাব থাকলে এমন দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে সংকীর্ণ প্রবেশপথে নিয়ন্ত্রণহীন চাপ প্রাণঘাতী হতে পারে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে হাইতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতা ও নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে এই দুর্ঘটনা দেশটির পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।