জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য শ্রীমঙ্গলে নেমেছে অস্বাভাবিক মন্দা। ঈদের পর পর্যটকের ভিড় থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে বুকিং কমে নেমেছে প্রায় ২০ শতাংশে। এতে পর্যটননির্ভর স্থানীয় অর্থনীতি পড়েছে চাপে।

পর্যটকশূন্য শ্রীমঙ্গল
‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল সাধারণত ঈদের পর ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম গন্তব্য। কিন্তু সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট পরিস্থিতিকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। গত শুক্র ও শনিবার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, বেশির ভাগ রিসোর্টের কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে আগাম বুকিং ছাড়া কক্ষ পাওয়া যেত না, সেখানে এখন পর্যটকের উপস্থিতি খুবই কম।

রিসোর্টে বুকিং কমে ২০ শতাংশ
রাধানগরের প্যারাগন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের জ্যেষ্ঠ রিজার্ভেশন এক্সিকিউটিভ সৈয়দ নাসিম জানান, সাপ্তাহিক ছুটিতে তাদের বুকিং আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। আগে যেখানে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কক্ষ বুক থাকত, এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ শতাংশে। তার মতে, অধিকাংশ পর্যটক ব্যক্তিগত গাড়িতে আসেন, আর জ্বালানি সংকটের কারণে সেই যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

একই চিত্র তুলে ধরেন গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ও শ্রীমঙ্গল ট্যুরিজম সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিম আহমেদ। তিনি বলেন, পর্যটকের অভাবে অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে, যা ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলছে।

পরিকল্পনা বাতিল পর্যটকদের
ঢাকা থেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেছিলেন সাহাদাত হোসেন। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে সেই পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে। তিনি জানান, তেলের অভাব ও বাড়তি ভাড়ার কারণে ব্যক্তিগত গাড়ি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে পরিবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসায় ধস
পর্যটকের অভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। রাধানগরের চামুং রেস্তোরাঁর সহকারী ব্যবস্থাপক দিলীপ পাশি বলেন, ছুটির দিনের ভিড় এখন নেই বললেই চলে। লোডশেডিংয়ের সময় জেনারেটর চালানোর জন্য জ্বালানি জোগাড় করাও কঠিন হয়ে উঠেছে।

খাবার বিক্রেতা সাজিদ হুসাইন জানান, তাদের আয়ের মূল উৎস পর্যটক। আগে সারাদিন বিক্রি চললেও এখন ক্রেতা পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।

অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও করণীয়
রাধানগর ট্যুরিজম এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাস বলেন, বছরের এই সময়ে এমন পর্যটক সংকট অস্বাভাবিক। সাধারণত ঈদের পর ও বর্ষা মৌসুমে পর্যটনের নতুন ধারা শুরু হয়।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় চলছে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পর্যটন খাতকে সহায়তা দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।