যুক্তরাজ্যে বাড়ি, মর্টগেজ আর নিত্যদিনের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন এক ব্রিটিশ দম্পতি। শেষ পর্যন্ত তারা এমন এক সিদ্ধান্ত নিলেন, যা অনেকের কাছেই অবাক করার মতো। বাড়ি বিক্রি করে পুরো সময়ের জন্য প্রমোদতরীতে (ক্রুজ শিপ) বসবাস শুরু করেছেন তারা।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কটল্যান্ডের বাসিন্দা ক্যাটরিনা ও কেভিন মিডলটন তাদের প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার পাউন্ড মূল্যের বাড়ি বিক্রি করে নতুন জীবন শুরু করেছেন সমুদ্রপথে ভ্রমণের মাধ্যমে।
২৯ বছর বয়সী ক্যাটরিনা পেশায় একজন সিআরএম মার্কেটিং ম্যানেজার। ৪৩ বছর বয়সী কেভিন একজন আইটি কনসালট্যান্ট। 
দুজনেরই কাজ অনলাইনে করা সম্ভব হওয়ায় তারা প্রমোদতরীর বিলাসবহুল কেবিন থেকেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তারা একটির পর একটি প্রমোদতরীতে ভ্রমণ করছেন। এর মধ্যে তারা ঘুরে এসেছেন ক্যারিবিয়ান অঞ্চল, মরিশাস এবং মায়ামি। 
সমুদ্রযাত্রার এই জীবনধারা শুধু ভ্রমণের সুযোগই দিচ্ছে না, বরং তাদের মতে এটি যুক্তরাজ্যে বসবাসের তুলনায় সাশ্রয়ীও।
তাদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে থাকার সময় প্রতি মাসে প্রায় ৬ হাজার ৫১০ পাউন্ড খরচ হতো। এর মধ্যে ছিল ১ হাজার ৩০০ পাউন্ড মর্টগেজ, দুটি গাড়ির জন্য প্রায় ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের বিলসহ আরও নানা খরচ।

অন্যদিকে এখন ক্রুজ জাহাজে থাকার জন্য তাদের মাসিক খরচ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পাউন্ড। এতে জাহাজের ভাড়া, ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন ভ্রমণ কার্যক্রমের খরচও অন্তর্ভুক্ত। ফলে সমুদ্রপথে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতেই তারা কিছু অর্থ সাশ্রয়ও করতে পারছেন।
তবে এই জীবনযাত্রার কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অঞ্চলে থাকার কারণে তাদের যুক্তরাজ্যের অফিস সময় মেনে কাজ করতে হয়। ফলে কখনও কখনও খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করতে হয়।

ক্যাটরিনা জানান, প্রথমদিকে সিদ্ধান্তটি কিছুটা ভয় ধরিয়ে দিলেও এখন তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি সুখী। তার ভাষায়, প্রমোদতরী ভ্রমণের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো একই যাত্রায় পৃথিবীর নানা জায়গা দেখা সম্ভব।
যদিও পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকা এবং ঘরের রান্নার মতো ছোট ছোট বিষয় মাঝে মাঝে মিস করেন তিনি। 
তবুও এ দম্পতি বলছেন, আপাতত স্থায়ী জীবনে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই; বরং ২০২৭ সাল পর্যন্ত নতুন নতুন প্রমোদতরীতে করে ভ্রমণের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন তারা।