দেশের নদীপথের শতবর্ষী ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন প্যাডেল স্টিমার পিএস মাহসুদকে পর্যটনসেবায় ফিরিয়ে আনতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারের পর চালু করা স্টিমারটি বর্তমানে বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের কাছে ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় এর চলাচলও নিয়মিত নয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পিএস মাহসুদকে পর্যটনসেবায় যুক্ত করে। তৎকালীন নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন এর উদ্বোধন করেন। দেশের নদীপথের ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং রিভার ট্যুরিজম বিকাশের লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছিল।

তবে উদ্বোধনের পর কয়েকটি ভ্রমণসূচি ঘোষণা করা হলেও পর্যাপ্ত যাত্রী না পাওয়ায় অনেক ট্রিপ পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। পরে বিআইডব্লিউটিসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার পরিবর্তে স্টিমারটি বেসরকারি ট্যুর অপারেটর ‘রিভার অ্যান্ড গ্রিন ট্যুরস’-এর কাছে দুই বছরের জন্য চার্টার দেয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে মাসে ৪ লাখ ২৫ হাজার ১০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে।

চুক্তি কার্যকরের প্রায় ছয় মাসে স্টিমারটি মাত্র ১০টি ট্রিপ পরিচালনা করেছে। গত মে মাসে এক দিনও চলেনি পিএস মাহসুদ। সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাব এবং পর্যটকসংকটই এর প্রধান কারণ।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, করপোরেশনের কাছে বর্তমানে চারটি ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পিএস মাহসুদকে কেবল পর্যটনসেবার জন্য চালু করা হয়েছে। পুরোনো হওয়ায় এসব জাহাজকে আর বাণিজ্যিক যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা যায় না। তাই ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হচ্ছে।

স্টিমারটির সংস্কার ব্যয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ না হলেও বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেরামত ও আধুনিকায়নে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় হয়ে থাকতে পারে। তবে পরিচালকের দাবি, ব্যয় ১ কোটির বেশি হওয়ার কথা নয়।

বর্তমানে পিএস মাহসুদে প্রায় ৩২৩ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা রয়েছে। দিনব্যাপী ভ্রমণ প্যাকেজে প্রায় ২০০ জন এবং রাতযাপনের প্যাকেজে প্রায় ৪০ জন পর্যটকের ব্যবস্থা আছে। পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, একটি ট্রিপ লাভজনক করতে কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ যাত্রীর প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত বুকিং না পাওয়ায় প্রতি সপ্তাহে ট্রিপ পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না।

১৯২২ সালে কলকাতার গার্ডেন রিচ ওয়ার্কশপে নির্মিত পিএস মাহসুদ বাংলাদেশের অবশিষ্ট চারটি প্যাডেল স্টিমারের একটি। একসময় বাষ্পশক্তিচালিত এসব জলযানই ছিল নদীপথের দ্রুততম বাহন, যা মানুষের মুখে ‘রকেট স্টিমার’ নামে পরিচিতি পায়।