মাত্র দেড় লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যা। আয়তনও মাত্র ৪৪৪ বর্গকিলোমিটার। তবু ফুটবল বিশ্বে অবিশ্বাস্য এক কীর্তি গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল আসরে জায়গা করে নিয়েছে ক্যারিবীয় দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপ ইতিহাসের ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে নতুন রেকর্ডও গড়েছে তারা। জ্যামাইকা ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর মতো শক্তিশালী দলকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে দেশটি।

ফুটবলের সাফল্যের পাশাপাশি কুরাসাও পরিচিত তার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বহুসাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং রঙিন নগরজীবনের জন্য। স্প্যানিশ, ডাচ ও ব্রিটিশ শাসনের ইতিহাস দেশটির সংস্কৃতিতে তৈরি করেছে এক অনন্য মিশ্রণ।

কুরাসাওয়ের রাজধানী উইলেমস্টাড দ্বীপটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় শহর। সেন্ট আনা বে শহরটিকে দুটি অংশে ভাগ করেছে। একদিকে পুন্ডা, যেখানে ডাচ ঔপনিবেশিক আমলের উজ্জ্বল রঙের ভবন সারি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে ওত্রোবান্দা, যা স্ট্রিট আর্ট, বুটিক হোটেল এবং ঐতিহাসিক কুরা হুলান্দা এলাকার জন্য পরিচিত। এই দুই অংশকে যুক্ত করেছে ভাসমান কুইন এমা ব্রিজ। পাশাপাশি কুইন জুলিয়ানা ব্রিজ ক্যারিবীয় অঞ্চলের অন্যতম উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত।

দ্বীপটির দক্ষিণ উপকূলজুড়ে রয়েছে নীল জলরাশি, চুনাপাথরের পাহাড় এবং মনোরম সৈকত। গ্রোতে নিপ ও ক্যাস আবাহু সৈকত পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। প্লেয়া পিসকাডো এলাকায় প্রায়ই দেখা মেলে সামুদ্রিক কচ্ছপের। কুরাসাও বিশেষভাবে পরিচিত শোর ডাইভিংয়ের জন্য, যেখানে নৌকা ছাড়াই সরাসরি সৈকত থেকে প্রবালপ্রাচীর এলাকায় ডুব দেওয়া যায়। মাশরুম ফরেস্টের প্রবাল অঞ্চল এবং ১৯৭৭ সালে ডুবে যাওয়া সুপিরিয়র প্রডিউসার জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ডাইভারদের অন্যতম আকর্ষণ।

দক্ষিণ উপকূলের শান্ত পরিবেশের বিপরীতে উত্তর উপকূলে রয়েছে বুনো প্রকৃতির ছোঁয়া। শেতে বোকা ন্যাশনাল পার্কে সমুদ্রের শক্তিশালী ঢেউ গুহার দেয়ালে আছড়ে পড়ে সৃষ্টি করে রোমাঞ্চকর দৃশ্য। এখানকার হেটো কেভস গুহাগুলো প্রায় ১ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো দেয়ালচিত্র ও বাদুড়ের আবাসস্থলের জন্য পরিচিত।

ইতিহাসপ্রেমীদের জন্যও কুরাসাও আকর্ষণীয় গন্তব্য। ১৬৩৫ সালে নির্মিত ফোর্ট আমস্টারডাম এখনও দ্বীপটির ঔপনিবেশিক অতীতের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্লু কুরাসাও লিকারের উৎপত্তিও এই দ্বীপে। স্প্যানিশদের আনা লারাহা কমলার খোসা থেকে তৈরি এই পানীয়ের উৎপাদন প্রক্রিয়া দেখা যায় ঐতিহাসিক ল্যান্ডহুইস চোবোলোবোতে।

সংস্কৃতির দিক থেকেও কুরাসাও বৈচিত্র্যময়। স্থানীয়রা মূলত পাপিয়ামেন্তু ভাষায় কথা বলে। রাজধানীর প্লাসা বিউ বা ওল্ড মার্কেটে পাওয়া যায় ঐতিহ্যবাহী ক্রাইওলো খাবার। ছাগলের মাংসের স্ট্যু ‘কাব্রিতু স্তোবা’ স্থানীয়দের অন্যতম জনপ্রিয় পদ।