বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন গন্তব্য নাফাখুম জলপ্রপাত ক্রমেই হারাচ্ছে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া প্লাস্টিক ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পাহাড়ি পরিবেশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব এবং কিছু পর্যটকের অসচেতন আচরণের কারণে নাফাখুম ও আশপাশের এলাকা পরিবেশগত ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ি ঝিরিপথ এবং সাঙ্গু নদীর মনোমুগ্ধকর পরিবেশের কারণে প্রতিবছর কয়েক লাখ পর্যটক বান্দরবানের থানচি উপজেলার নাফাখুমে ভ্রমণে আসেন। তবে পর্যটন মৌসুম শেষে জলপ্রপাতের আশপাশ, পাহাড়ি পথ এবং বিশ্রামস্থলে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের মোড়ক, চায়ের কাপসহ নানা ধরনের বর্জ্য ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের মতে, এসব বর্জ্য অপসারণে নিয়মিত ও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্যও ম্লান হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকাশ মারমা বলেন, সম্প্রতি নাফাখুমে গিয়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে চিপসের প্যাকেট, কফির কাপ ও পানির বোতল পড়ে থাকতে দেখেছেন। এসব বর্জ্য শুধু পরিবেশ নষ্ট করছে না, পর্যটনকেন্দ্রটির সৌন্দর্যও ক্ষুণ্ন করছে।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে আসা দুই পর্যটক রাসেল ও সায়েদ বলেন, নাফাখুমের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। কিন্তু পর্যটকদের একটি অংশের অসচেতনতার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
নাফাখুম ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দা রবি ত্রিপুরা জানান, পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন দোকানের সামনে বর্জ্য ফেলার ঝুড়ি রাখা হলেও অনেকেই তা ব্যবহার করেন না। বরং প্লাস্টিকের কাপ, পানির বোতল ও খাবারের মোড়ক যেখানে-সেখানে ফেলে যান।
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে প্লাস্টিক বর্জ্য দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায় এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি ঝিরিপথ ও জলপ্রবাহে এসব বর্জ্য জমে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও ব্যাহত হতে পারে।
এ বিষয়ে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে থানচি অন্যতম। এলাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটনকেন্দ্র সংলগ্ন গ্রামপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পর্যটকদের ব্যক্তিগত সচেতনতা ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নাফাখুমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।