যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাত ২০২৬ সালে একদিকে উৎসবের সম্ভাবনা, অন্যদিকে আস্থার সংকটে দুলছে। বড় বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন সামনে থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং কঠোর অভিবাসন নীতি মিলিয়ে পর্যটকদের একাংশ এখন দেশটি এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি, ফুটবল বিশ্বকাপ এবং ঐতিহাসিক রুট ৬৬-এর শতবর্ষ উদ্যাপন ঘিরে বছরটি হতে পারত পর্যটনের জন্য স্বর্ণালী সময়। কিন্তু দীর্ঘ সরকারি শাটডাউন ও বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষার অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিমানবন্দরে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বেতন সংকটে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অধীন টিএসএ কর্মীদের একটি অংশ কাজ ছেড়ে দেওয়ায় নিরাপত্তা লাইনে অপেক্ষা চার ঘণ্টা পর্যন্ত গড়িয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট এজেন্টদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও, তাদের অভিজ্ঞতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যটকদের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা ও আচরণগত সমস্যা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুলভাবে আটকের ঘটনাও ঘটেছে, যা পরে সংশোধন করা হয়েছে। এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের মনে অস্বস্তি ও ভীতি তৈরি করছে।
কঠোর নীতি ও কমছে পর্যটক
বিশ্ব পর্যটন সূচকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানেও প্রভাব পড়েছে। ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম ব্যারোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে পর্যটক সংখ্যা বেড়েছে ৪ শতাংশ, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে প্রতিবেশী কানাডা থেকে, যেখানে পর্যটক কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার প্রস্তাব এই পতনের বড় কারণ। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গত পাঁচ বছরের ইতিহাস চাওয়ার পরিকল্পনা অনেক পর্যটকের কাছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপের পর্যটকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের পর্যটকেরা রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করছেন।
আস্থা ফেরাতে চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামনে থাকা বড় আয়োজনগুলোর সফলতা নির্ভর করছে পর্যটকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের ওপর। পর্যটকেরা শুধু আকর্ষণীয় গন্তব্য নয়, ভ্রমণের সময় স্বস্তি ও সম্মানও প্রত্যাশা করেন।
তবে পুরো চিত্র নেতিবাচক নয়। স্থানীয় ট্যুর অপারেটররা বলছেন, বিমানবন্দরের বাইরে দেশের ভেতরে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক। ইউএস ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনও পরিস্থিতি উন্নত করতে কাজ করছে। কিছু বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে নতুন প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে।
সম্ভাবনা ও সংকটের সন্ধিক্ষণ
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাত এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। দ্রুত সংস্কার ও ইতিবাচক বার্তা দিতে না পারলে বড় আয়োজনগুলোর সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।