সবুজ পাহাড় আর নীল সমুদ্রের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যেন ইউরোপের কোনো উপকূলীয় শহর। প্রথম দেখায় বিভ্রম তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এটি ইতালির নয়, এশিয়ারই এক দ্রুত বদলে যাওয়া দ্বীপ। ভিয়েতনামের ফু কুয়োক এখন বিশ্ব স্থাপত্য ও আধুনিক পর্যটনের এক নতুন পরীক্ষাগার।
পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামা রঙিন দালান, সমুদ্রের দিকে খোলা বারান্দা আর সরু পাথুরে পথ মিলিয়ে এখানে তৈরি হয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় আবহ। অনেকের চোখে এটি আমালফি কোস্ট-এর ছায়া মনে করিয়ে দেয়। তবে হোই আন বা হুয়ে-এর মতো ঐতিহাসিক শহরের বিপরীতে ফু কুয়োকের শক্তি তার আধুনিক রূপান্তরে।
দ্বীপের সান সেট টাউন এলাকায় ইউরোপীয় নকশার প্রভাব সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। এখানে রোমান কলোসিয়াম থেকে অনুপ্রাণিত কেবল কার স্টেশন এবং ভেনিসের সেন্ট মার্কস ক্যাম্পানিল ধাঁচে তৈরি ক্লক টাওয়ার পর্যটকদের অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। তবে এগুলো নিছক অনুকরণ নয়। স্থানীয় জলবায়ু মাথায় রেখে নকশায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। ফলে ইউরোপীয় সৌন্দর্যের সঙ্গে ভিয়েতনামের প্রকৃতি ও আবহ মিলেছে স্বাভাবিকভাবে।
ফু কুয়োকের আরেক বড় আকর্ষণ সূর্যাস্ত। সান সেট টাউনের সিঁড়ি বা সমুদ্রঘেঁষা বারান্দা থেকে আকাশের রঙ বদলের দৃশ্য পর্যটকদের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।
দ্বীপটির আলোচিত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে কিস ব্রিজ। ইতালীয় স্থপতি মার্কো কাসামন্টি-র নকশায় তৈরি এই সেতুর দুই প্রান্ত একে অপরের দিকে এগিয়ে গিয়ে মাঝখানে সামান্য ফাঁক রেখে থেমে গেছে। এই অসম্পূর্ণতাই সেতুটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
পাশেই আছে জেডব্লিউ ম্যারিয়ট ফু কুয়োক এমারেল্ড বে, যা নকশা করেছেন স্থপতি বিল বেনসলি। এর প্রতিটি অংশে গল্পভিত্তিক ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যা পর্যটকদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করে।
আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়নের দিক থেকেও ফু কুয়োক দ্রুত এগোচ্ছে। নতুন বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও কনভেনশন সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এই অগ্রগতির ফলে ভিয়েতনাম-এর এই দ্বীপ ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।