তুরস্কে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাগুলোর মধ্যে শীর্ষে উঠে এসেছেন ইস্তাম্বুলের এক পথের খাবার বিক্রেতা। তাকে এক নজর দেখার এবং সেলফি তোলার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ভিড় জমাচ্ছেন।
আলপার তেমেল নামের এই ব্যক্তি ভাজা চেস্টনাট ও ভুট্টা বিক্রি করেন। তিনি গত সাত বছর ধরে ইস্তাম্বুলে তার পরিবারের স্ট্রিট ফুডের দোকানে দুই ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করছেন।
তবে ২০২৪ সালে তার সুদর্শন চেহারা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর থেকে ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক জলতীরবর্তী এলাকা কারাকয়ের ওই ছোট দোকানটিতে পর্যটক ও ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকে।
বর্তমানে দোকানটি শুধু খাবার কেনার জায়গা নয়, বরং একটি জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণও। দ্রুত কিছু খাওয়ার জন্য আসা মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য ভক্ত এখানে ভিড় করেন আলপার তেমেলের সঙ্গে দেখা করতে, কথা বলতে এবং ছবি তুলতে।
তার জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে স্থানীয় ট্যুর গাইডরা এখন তাদের ভ্রমণসূচিতে এই দোকানটিকেও অন্তর্ভুক্ত করছেন। অনেক ইনফ্লুয়েন্সারও তাকে নিয়ে ভিডিও তৈরি করেছেন, যা তার খ্যাতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তেমেলের এই তারকাখ্যাতি তার পরিবারের ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত স্ট্রিট ফুড ব্যবসাকেও নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
তেমেল বলেন, “মানুষের এই সমর্থনের জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ। অন্য সব তরুণের মতো আমিও আমার পরিবারকে সর্বোচ্চভাবে সাহায্য করতে চাই। এই জনপ্রিয়তা সেই পথটাকে আরও দ্রুত করে দিয়েছে।”
২০২৫ সালের অক্টোবরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট চালু করার পর থেকে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ৯ লাখ ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। টিকটকে তার অনুসারী ৬ লাখ ৯৫ হাজারেরও বেশি।
তার বেশির ভাগ ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি পর্যটকদের কাছে ভুট্টা ও চেস্টনাট বিক্রি করছেন, তাদের সঙ্গে ছবি তুলছেন এবং গল্প করছেন। ক্যামেরার দিকে তার আত্মবিশ্বাসী দৃষ্টি ও আকর্ষণীয় ভিডিও নির্মাণশৈলী তাকে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি লাইক এনে দিয়েছে।
টিকটক লাইভে তাকে ভক্তদের সঙ্গে সেলফি তুলতে, ক্যামেরার দিকে উড়ন্ত চুম্বন পাঠাতে এবং হাজারো দর্শকের প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা যায়। একসময় লাইভে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ তাকে দেখেন।
মন্তব্যগুলো দেখলেই তার জনপ্রিয়তার চিত্র স্পষ্ট হয়। কেউ লিখেছেন, “তুরস্ক, আমি আসছি।” আবার কেউ তার সঙ্গে তোলা সেলফি শেয়ার করছেন। অনেকে জানতে চাইছেন, তিনি কোনো মডেলিং এজেন্সির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কিনা।
তেমেল জানান, তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মডেলিং সংস্থার চুক্তির প্রস্তাব, সিনেমা ও টেলিভিশনে অভিনয়ের সুযোগ, এমনকি বিয়ের প্রস্তাবও পেয়েছেন। তুরস্কের ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন স্টুডিও’ তাকে ২০২৫ সালের ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ হিসেবেও ঘোষণা করেছে।
তবে খ্যাতি তাকে বদলে দেয়নি বলে দাবি তেমেলের। তিনি বলেন, “মানুষের ভালোবাসা অনেক মূল্যবান, কিন্তু এর সঙ্গে দায়িত্বও আসে। তাই আমি সবসময় নিজের কাজের প্রতিই মনোযোগী থাকার চেষ্টা করি।”
তার মতে, এই জনপ্রিয়তা তুরস্ককে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার একটি সুযোগ। তিনি বলেন, “আমি চাই মানুষ তুরস্কের বৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এখানকার মানুষকে নিজের চোখে দেখুক। আমাদের কাছে বিদেশ থেকে আসা মানুষ পর্যটক নয়, তারা অতিথি। আর আমরা অতিথিদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় স্বাগত জানাই।”