জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা— ডব্লিউএমও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই গ্রীষ্মে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৮০ শতাংশ।
চরম আবহাওয়া এখন ভ্রমণ পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতায় বড় প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে গ্রীষ্মকালীন ছুটির গন্তব্য বদলে যাচ্ছে, বন দাবানলের ঝুঁকি বাড়ায় ভ্রমণ বীমার প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে।
এবার জলবায়ু মডেলগুলো একটি সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনোর’ ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলে সাগরের পানি অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে উঠলে এই ঘটনা ঘটে। 
ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ইউরো নিউজ’ লিখেছে, এল নিনো আবহাওয়ার ধরণ বদলে দিতে পারে। একই সঙ্গে খরা, ভারী বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে।

ভ্রমণকারীদের জন্য এর অর্থ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন ভ্রমণ পরিকল্পনায় আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
ডব্লিউএমও (বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা) বলছে, এল নিনো শুধু গ্রীষ্মেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নয়, বরং নভেম্বর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাও ৯০ শতাংশের বেশি। 
ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, বন্যা, ভারী বৃষ্টি ও তীব্র গরম দেখা দিতে পারে।
জুন থেকে আগস্টের মধ্যে বিশ্বের বহু স্থানে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৬০০ জন অবকাশযাপনকারী ভ্রমণকারীর ওপর 'সেনসিবল ওয়েদার' পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ভ্রমণ বুকিংয়ের সময় খারাপ আবহাওয়া এখন দ্বিতীয় বড় উদ্বেগ, খরচের পরেই। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনিশ্চিত থাকায় তারা ভ্রমণ পিছিয়েছেন।

ভ্রমণের অভ্যাসে কী পরিবর্তন আসছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণকারীরা এখন গন্তব্য বাছাইয়ে আরও সতর্ক হচ্ছেন। অনেকেই তুলনামূলক ঠান্ডা আবহাওয়ার দেশ বা অঞ্চল, অর্থাৎ “কুলকেশন” বেছে নিচ্ছেন। এছাড়া ভিড় কম থাকা “শোল্ডার সিজন” এবং আবহাওয়া বদলালে সহজে মানিয়ে নেওয়া যায়—এমন ভ্রমণ পরিকল্পনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনো গন্তব্যে তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস থাকে এবং আপনার পরিকল্পনায় ট্রেকিং বা আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার থাকে, তাহলে তারিখ বা পরিকল্পনা বদলের সুযোগ আছে কি না, তা আগেভাগে জেনে নেওয়া ভালো।

ভ্রমণ বীমা কি সব ক্ষতি পূরণ করবে?
না। চরম আবহাওয়া বা তাপপ্রবাহের কারণে ভ্রমণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সব সময় বীমা থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া যায় না। সাধারণত সরকারিভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হলে বা চিকিৎসক ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিলে তবেই ক্ষতিপূরণের সুযোগ থাকে।
তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর সময়ে ভ্রমণ বুকিংয়ে আগেভাগে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং নমনীয় পরিকল্পনা রাখা বেশি নিরাপদ।

আবহাওয়া-ভিত্তিক নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা
জলবায়ু অনিশ্চয়তা বাড়ায় এখন আবহাওয়া-সংক্রান্ত সুরক্ষা পণ্যও জনপ্রিয় হচ্ছে। কিছু ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান এমন ব্যবস্থা চালু করেছে, যেখানে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি বৃষ্টি হলে বা প্রতিশ্রুত আবহাওয়া না মিললে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।
উদাহরণ হিসেবে, 'জেটব্লু ভ্যাকেশনস' সম্প্রতি জ্যামাইকা ভ্রমণ প্যাকেজের জন্য “গ্রেট ওয়েদার গ্যারান্টি” চালু করেছিল। নির্ধারিত সীমার বেশি বৃষ্টি হলে গ্রাহককে ৫০০ ডলার পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এল নিনো নতুন কিছু নয়, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের যুগে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। তাই গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণে শুধু হোটেল আর টিকিট নয়, আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।